Home / এক্সক্লুসিভ / বাবার টিউশনির টাকায় বিসিএস ক্যাডার, হারাম এক টাকাও খাব না

বাবার টিউশনির টাকায় বিসিএস ক্যাডার, হারাম এক টাকাও খাব না

*** ২১তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তউহীদ আহম’দ কল্লোল
*** সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি
*** হাস*পাতালের স্বাস্থ্যসেবাকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার
*** সরকারি হাস*পাতালের দু’র্নীতি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেন ডা. কল্লোল
*** দু’র্নীতি রোধে নিজের অবস্থান, নীতি-নৈতিকতার দায়বদ্ধতার কথা জানালেন

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ যাওয়ার পর নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছেন ডা. তউহীদ আহম’দ কল্লোল। যোগদানের পর থেকে নিজেকে হাস*পাতাল ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন তিনি।

একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের দু’র্নীতি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সরকারি হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি হাস*পাতালটিকে সুন্দরভাবে সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ডা. কল্লোল।

২১তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তউহীদ আহম’দ কল্লোল। প্রথম কর্মস্থল হিসেবে সিলেটে যোগ দেন তিনি। সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন হওয়ার আগে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাস*পাতালের সহকারী পরিচালক ছিলেন কল্লোল। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করেছেন তিনি।

সিভিল সার্জন তউহীদ আহম’দ কল্লোল বলেন, সুনামগঞ্জে আসার আগেই সুনামগঞ্জ হাসপাতালের একটি দু’র্নীতির ত’দন্তের দায়িত্বে ছিলাম আমি। কাজেই সুনামগঞ্জ হাসপাতাল স’ম্পর্কে আগে থেকে আমা’র কিছু ধারণা রয়েছে। ওই ধারণার আলোকে সুনামগঞ্জ হাস*পাতালের স্বাস্থ্যসেবাকে নতুন করে সাজানোর কিছু পরিকল্পনা রয়েছে আমা’র।

jagonews24
স্বাস্থ্যসেবাকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা সাংবাদিককে জানাচ্ছেন ডা. কল্লোল

তিনি বলেন, আমা’র পরিকল্পনাগুলোকে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি; তিনভাগে ভাগ করে নিয়েছি। প্রথমে স্বল্প আকারের সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে। এরপর মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা এবং পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স থেকে শুরু করে কর্মক’র্তা-কর্মচারীদের মধ্যে একটি নিয়ম-শৃঙ্খলা তৈরি করে দেয়া হবে আমা’র মূল লক্ষ্য। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। আম’রা প্রতিনিয়ত চিকিৎসক বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিচ্ছি, আশা করি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।

হাসপাতাল নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, আমা’র প্রথম কাজ হবে সবাইকে একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা। সবাই নিয়মমতো অফিসে আসছেন কিনা তা খতিয়ে দেখব আমি। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মক’র্তাদের পোশাক বাধ্যতামূলক করা হবে। হাসপাতালের যেসব কর্মক’র্তা ব্যক্তিগত পোশাক পরে আসবেন তাকে দালাল হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। কারণ সবার পোশাক নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। কে চিকিৎসক, কে নার্স, কে কর্মক’র্তা এবং কে কর্মচারী পোশাকেই নির্ধারণ হবে। চিকিৎসক ও নার্সদের অবশ্যই নেমপ্লেট ব্যবহার করতে হবে।

সিভিল সার্জন কল্লোল বলেন, আমি যেহেতু নতুন তাই এখনও অনেক জায়গায় হাত দেইনি। চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য হাসপাতালের পাশে যে কোয়ার্টার রয়েছে সেটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। যদি বড় কোনো দুর্ঘ’টনা ঘটে কিংবা কোনো কারণে রাতে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকেন সেক্ষেত্রে আম’রা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কোয়ার্টার থেকে চিকিৎসক ও নার্সের সহযোগিতা পাব। হাসপাতালের আশপাশের অবস্থা খুব খা’রাপ। ময়লা-আবর্জনায় হাস*পাতালের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি এসব খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা নেব।

‘চার কোটি টাকার সম্পদের মালিক অফিস সহকারীর স্ত্রী’’ শিরোনামে জাগো নিউজে সংবাদ দেখে সিভিল সার্জন তউহীদ আহম’দ কল্লোল বলেন, দু’র্নীতি করে কে বাড়িঘর বানালেন, কে জমি কিনলেন সেটি দেখবে দুদক। আমি শুধু দেখব কেউ আমা’র হাসপাতালের খাত থেকে দু’র্নীতি করেছেন কি-না। আমি তার সম্পত্তি দেখব না। তবে হাসপাতালের খাত থেকে কত টাকা নয়-ছয় করেছেন সেটি অবশ্যই দেখব আমি। এটা সবার ক্ষেত্রেই দেখব। সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য টাকা দেবে, আর তা মে’রে খাবে- আমি এসব সহ্য করব না। সবকিছুর হিসাব নেব। যারা হাসপাতালের দু’র্নীতির বিষয়ে আমাকে জানিয়েছেন এবং সংবাদ করেছেন। অবশ্যই হাসপাতালের কোন খাত থেকে কে কত টাকা খেয়েছেন তা উল্লেখ করবেন। কারণ স্পষ্টভাবে না লিখলে কিংবা না উল্লেখ করলে আমি অ’প’রাধীকে ধরতে পারব না।

সুনামগঞ্জে নতুন ২৫০ শয্যা হাস*পাতালের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে ডা. কল্লোল বলেন, আম’রা ধীরে ধীরে সবকিছু নতুন ভবনে নিয়ে যাব। এখন আম’রা দেখতেছি কোথাও কোনো সমস্যা আছে কিনা। লিফট থেকে শুরু করে সব সুইচ পরীক্ষা করা হচ্ছে, কারণ আমা’র রোগীরা ক’ষ্ট থাকবে- তা হবে না। সব রোগীকে খুব দ্রুত নতুন ভবনে নিয়ে যাব আম’রা।

jagonews24
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে ডা. কল্লোল

হাস*পাতালের দু’র্নীতি রোধে নিজের অবস্থান, পারিবারিক নীতি-নৈতিকতার দায়বদ্ধতার কথা জানিয়ে সিভিল সার্জন তউহীদ আহম’দ কল্লোল বলেন, আমি এখানে সৎভাবে কাজ করতে এসেছি। আপনারা আমা’র এবং পরিবার স’ম্পর্কে খোঁজখবর নেন, আমাকে সরকার যে বেতন দেয় তা দিয়েই সংসার চালাই। আমি হারাম এক টাকাও খাব না, কেউ খাওয়াতে পারবে না। দু’র্নীতি করব না। আমা’র বাবা উপসচিব ছিলেন। তবুও তিনি টিউশনি করেছেন। ক’ষ্ট করে আমাকে পড়িয়েছেন, মানুষের মতো মানুষ করেছেন। আমি যদি দু’র্নীতি করি তাহলে ক’লঙ্কের দাগটা আমা’র বাবা ও পরিবারে লাগবে। আমা’র বাবা এবং পরিবারে ক’লঙ্কের দাগ লাগতে দেব না আমি।

সবশেষে সিভিল সার্জন কল্লোল বলেন, অনেক সময় অনেক ফাইলে আমাকে স্বাক্ষর করতে হয়। যদি আমা’র মাধ্যমে কোনো ভুল ফাইলে স্বাক্ষর হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই আপনারা (সাংবাদিকরা) ধরিয়ে দেবেন, আমি শুধরে নেব। কারণ অনেক সময় অনেক কিছু চোখের আড়ালে হয়ে যায়, তাই এসব কাজে আপনাদের সহযোগিতা আমা’র খুব প্রয়োজন।